সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস এসআই সুপ্রাংশু দে’র মৃত্যুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি’র শোক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন আজ শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে স্বপ্ন, ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি ২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক ‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক পাগল হাসানের গান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ প্রাণ মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বললেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন

‘গুপ্ত রাজনীতি’র অবসান হোক'

  • আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৬ ০৯:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৬ ০৯:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন
‘গুপ্ত রাজনীতি’র অবসান হোক'
বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সহনশীলতার প্রশ্নটি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব যে মন্তব্য করেছেন- “বাংলাদেশে আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি চলবে না” তা আবারও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক আচরণের প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। কোনো রাজনৈতিক দল বা তার সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম, নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কাঠামো যদি জনগণের কাছে স্পষ্ট না থাকে, তবে তা সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। এ বাস্তবতায় সব রাজনৈতিক দলের জন্যই তাদের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের তালিকা এবং কর্মকা- সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকা জরুরি। এটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য নয়, বরং গণতন্ত্রের সুস্থ বিকাশের জন্যও অপরিহার্য। রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যে বিশেষভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সাংগঠনিক পরিচয় প্রকাশের দাবি উঠে এসেছে। অন্যদিকে তিনি অভিযোগ করেছেন, গুপ্ত সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়েই রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে সত্য উদঘাটন। যদি কোনো সংগঠন আইন বা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে তার বিচার ও তদন্তের দায়িত্ব রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি বা বিভাজনমূলক ভাষা ব্যবহার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-সহ সব রাজনৈতিক দলের জন্যই প্রয়োজন নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা। গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, কিন্তু তা অবশ্যই হতে হবে যুক্তি, নীতি এবং শালীনতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। সেই সংস্কৃতিতে স্বচ্ছতা থাকবে, পার¯পরিক সম্মান থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অতএব, গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবি শুধু একটি দলের নয় - এটি হওয়া উচিত সব দলের সম্মিলিত অঙ্গীকার। কারণ, একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশই পারে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স